চলতি ২০২৬ সালে জ্বালানি তেলের গড় দাম থাকবে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের আশপাশে। অতিরিক্ত সরবরাহ পণ্যটির দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করলেও বাজারে এর দরপতনের মাত্রাকে সীমিত করে রাখবে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টদের ওপর চালানো এক জরিপের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের গড় দাম হতে পারে ব্যারেলপ্রতি ৬২ ডলার ২ সেন্ট। এটি ডিসেম্বরে দেয়া পূর্বাভাস ব্যারেলপ্রতি ৬১ ডলার ২৭ সেন্টের তুলনায় কিছুটা বেশি। গত বছর ব্রেন্টের গড় দাম ছিল প্রায় ৬৮ ডলার ২০ সেন্ট।
জরিপ থেকে আরো জানা যায়, চলতি বছর জ্বালানি তেলের মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) গড় দাম হতে পারে ব্যারেলপ্রতি ৫৮ ডলার ৭২ সেন্ট। ডিসেম্বরে দেয়া পূর্বাভাসে যা ছিল ব্যারেলপ্রতি ৫৮ ডলার ১৫ সেন্ট। ২০২৫ সালে ডব্লিউটিআইয়ের গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৪ ডলার ৭৩ সেন্ট।
বিশ্লেষকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা জ্বালানি তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি পরিবর্তন, চীনের চাহিদার তথ্য এবং ওপেক প্লাসের পরবর্তী পদক্ষেপ এ তিন বিষয়ই চলতি বছর জ্বালানি তেলের দামের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জুলিয়াস বেয়ারের অর্থনীতি ও নেক্সট জেনারেশন রিসার্চ বিভাগের প্রধান নরবার্ট রুকার বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকলেও ভেনিজুয়েলা বা ইরান-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো শেষ পর্যন্ত বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। কারণ বাজারে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বৃত্ত সরবরাহ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, জ্বালানি তেলের এ উদ্বৃত্ত সরবরাহ দৈনিক ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতা হারানোর পরও ভেনিজুয়েলা থেকে বড় আকারে উত্তোলন বাড়তে আরো সময় প্রয়োজন হবে।
কেপলারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে এপ্রিল পর্যন্ত ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ কমে যেতে পারে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিদ্যমান অবকাঠামো পুনরায় সক্রিয় হলে সরবরাহ ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর বাইরে উত্তোলন বাড়াতে হলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, পুরনো অবকাঠামো বদলানো এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হবে।